আরিফুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক তাজাখবর ডেস্ক:
পবিত্র রমজানের শেষ দশককে দান-সদকার জন্য সর্বোত্তম সময় হিসেবে উল্লেখ করে সমাজসেবক ও মানবাধিকার কর্মী ইঞ্জিনিয়ার শাহীন চৌধুরী বলেছেন, যাকাতের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো দরিদ্র মানুষের প্রকৃত অভাব দূর করা—শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়।
তার লেখা “যাকাতের লুঙ্গি-শাড়ি” শীর্ষক মতামতে তিনি বলেন, ‘যাকাত’ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ পবিত্রতা ও বৃদ্ধি। শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক মুসলমানদের প্রতি বছর আয়ের ২.৫ শতাংশ গরিব ও অসহায়দের মাঝে বণ্টন করা ফরজ।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, অনেক ক্ষেত্রে যাকাত হিসেবে লুঙ্গি-শাড়ি বিতরণ করা হলেও তা সবসময় উপকারে আসে না। বরং যদি কোনো অসহায় ব্যক্তির খাদ্য, চিকিৎসা বা ঋণ পরিশোধের প্রয়োজন বেশি থাকে, তাহলে তাকে নগদ অর্থ দেওয়া অধিক কার্যকর ও সওয়াবের কাজ।
ইঞ্জিনিয়ার শাহীন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে নগদ অর্থে যাকাত প্রদান অধিক যুক্তিযুক্ত। এতে উপকারভোগী ব্যক্তি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করতে পারেন—যেমন খাবার, ওষুধ বা সন্তানের শিক্ষা ব্যয়। অন্যদিকে, অনেক সময় দেখা যায় একজন ব্যক্তি একাধিক শাড়ি বা লুঙ্গি পেয়ে সেগুলো কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন, যা তার জন্য আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাকাতের নামে প্রদর্শনমূলক কার্যক্রম বাড়ছে। বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে লুঙ্গি-শাড়ি বিতরণ করা হলেও, অনেক ক্ষেত্রে তা প্রকৃত দরিদ্রের কাছে না গিয়ে আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতদের মধ্যে বণ্টিত হচ্ছে—যা যাকাতের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে।
সবশেষে তিনি সমাজের বিত্তবানদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান, লোক দেখানো নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আন্তরিকভাবে যাকাত আদায় করতে এবং প্রকৃত প্রয়োজন বিবেচনায় সহায়তা দিতে। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে যাকাতের ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের আহ্বান জানান।