আরিফুল ইসলাম,নিজস্ব প্রতিবেদক,তাজাখবর ডেস্ক :
চট্টগ্রাম মহানগরীর রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ২৪ নম্বর উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের এক ত্যাগী ও পরীক্ষিত বিএনপি নেতা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে গিয়ে তিনি ৭ বার কারাবরণ করেছেন এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে রয়েছে ২৪টি মামলা—যা তার রাজনৈতিক পথচলার কঠিন বাস্তবতারই প্রতিফলন।
দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি শুধু পদ-পদবীর রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে বরং মাঠ পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজ করে যাচ্ছেন। সাবেক ওয়ার্ড বিএনপির সমন্বয়কারী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি ও সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
আসন্ন ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক পদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “রাজনীতি আমার কাছে কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয় নয়, বরং এটি একটি আদর্শ ও দায়িত্বের জায়গা। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি দলের দুঃসময়ে পাশে থাকতে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে ১০ নম্বর নির্বাচনী আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আল নোমানের প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সময় তিনি ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের সাথে সমন্বয় করে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
এই নেতা বলেন, “ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের অসংখ্য নেতাকর্মীর সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। আমরা একসাথে আন্দোলন করেছি, রাজপথে থেকেছি এবং জনগণের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।”
সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনীতি শুধু ক্ষমতার জন্য নয়—মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত রাজনীতি। তিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “পদ-পদবী সবসময় উপরওয়ালার ফয়সালার ওপর নির্ভর করে। তবে দল যদি আমাকে সুযোগ দেয় এবং পরিবেশ অনুকূলে থাকে, তাহলে ইনশাআল্লাহ আমি কাউন্সিলর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।”
২৪ নম্বর উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ডকে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি উল্লেখ করে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার মতে, “এই ওয়ার্ডে বিএনপির বিপুল সংখ্যক ভোটার রয়েছে। যদি আমরা নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ বিএনপি মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হবে।”
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন—
“সুসময়ে বসন্তের কোকিলের অভাব হয় না,”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দুঃসময়ে পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং দলীয় নেতৃত্বের প্রতি সেই দিকটি বিবেচনার আহ্বান জানান।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও মাঠ পর্যায়ের সক্রিয়তা—এই তিনটি বিষয় একজন নেতার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে। সেই দিক থেকে এই নেতার অবস্থান ইতোমধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে।
এখন দেখার বিষয়, দলীয় সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাকে কতটা সামনে নিয়ে আসে এবং আগামী দিনে তিনি কতটা বড় পরিসরে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন।