আরিফুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক তাজাখবর ডেস্ক:
মরণোত্তর একুশে পদক প্রদানের জোর দাবি
বাংলা সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতির অঙ্গনে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র নিভে গেল। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী বিশিষ্ট সাংবাদিক, সম্পাদক, কবি ও নজরুল গবেষক—বাংলার “আল্লামা ইকবাল”
খ্যাত এই গুণী ব্যক্তিত্ব কয়েকদিন আগে রংপুরে স্ট্রোকজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। তাঁর প্রয়াণে দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
তিনি ছিলেন একাধারে সাহিত্যিক, গবেষক, সংগঠক ও সমাজচিন্তক। জীবদ্দশায় তাঁর রচিত ১৭০টিরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, যা বাংলা সাহিত্য ও গবেষণার ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর লেখনীতে উঠে এসেছে মানবিকতা, সমাজবোধ, ন্যায় ও সত্যের চেতনা। বিশেষ করে নজরুল গবেষণায় তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয়।
শুধু লেখালেখি নয়, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক ও সাংস্কৃতিক অগ্রদূত। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন জাতীয় সাংবাদিক মঞ্চ, জাতীয় কবিতা মঞ্চ এবং জাতীয় সংস্কৃতি মঞ্চ—যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশের সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে এই সংগঠনগুলো অনেক তরুণ লেখক, কবি ও সাংবাদিককে অনুপ্রাণিত করেছে এবং নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীলতার পথে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।
মানবিকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয়। সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, জ্ঞানচর্চা ছড়িয়ে দেওয়া এবং সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানোর ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অসামান্য। তিনি ছিলেন সত্যিকার অর্থেই একজন মানবিক ও প্রজ্ঞাবান কলমসৈনিক, যিনি তাঁর মেধা, শ্রম ও চিন্তার মাধ্যমে সমাজকে আলোকিত করার চেষ্টা করেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে জাতি একজন জ্ঞানী চিন্তাবিদ, গবেষক, সংগঠক এবং সাহসী সাংবাদিককে হারালো। তাঁর কর্ম, আদর্শ ও সাহিত্যকীর্তি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সমাজকে অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।
আমি আরিফুল ইসলাম, সাংবাদিক, দৈনিক মানবকণ্ঠ—বাংলা সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতিতে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি যে, এই মহান ব্যক্তিত্বকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করা হোক। এতে তাঁর অবদান যথাযথভাবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাঁর কর্ম ও আদর্শ থেকে অনুপ্রাণিত হবে।
আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে এই গুণী ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করছি এবং মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।