চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | দৈনিক তাজা খবর
দীর্ঘ আট বছর কারাবন্দি রেখে এক ব্যক্তিকে ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছিল।
কিন্তু ভাঙা যায়নি একটি পরিবারকে, ভাঙা যায়নি একটি বিশ্বাসকে।
২০১৬ সালের ১৫ মে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে আসলাম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন সন্দেহজনকভাবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে ২৬ মে গুলশান থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় প্রায় ৭৬টি মামলা।
টানা আট বছর জামিন না দিয়ে কারাগারে রেখে আসলাম চৌধুরী ও তাঁর পরিবারকে আর্থিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে নিপীড়নের চেষ্টা চালানো হয়। তবুও কোনো অন্যায় দাবির কাছে মাথা নত করেননি তিনি বা তাঁর পরিবার।
এই দীর্ঘ অন্ধকার সময়ের নীরব শক্তি ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী লায়ন জামিলা নাজনীন মাওলা।
তিনি শুধু একজন স্ত্রী নন—একজন সহযোদ্ধা, নেপথ্যের সংগঠক, অদৃশ্য প্রেরণাদাত্রী।
সন্দ্বীপের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২৪তম ব্যাচের এই নারী চাইলেই পারতেন স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন বেছে নিতে।
কিন্তু তিনি বেছে নিয়েছেন সংগ্রামের পথ।
স্বামীর কারাবন্দি অবস্থায় তিনি নিজের স্বপ্ন, বিলাসিতা ও ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে সীতাকুণ্ডসহ দেশের বৃহত্তর মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।
দীর্ঘদিন লায়নিজমের সঙ্গে যুক্ত থেকেও তিনি থেকেছেন প্রচারবিমুখ।
নীরবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ছিল তাঁর রাজনীতি।
তবে নির্বাচনী গণসংযোগে তাঁর সাবলীল বক্তব্য, বিচক্ষণ বিশ্লেষণ ও সাহসী অবস্থান আজ সীতাকুণ্ডবাসীর মনে নতুন আশা জাগাচ্ছে।
টানা আট বছর সন্তান বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত থেকেছে, পরিবার থেকেছে বিচ্ছিন্ন।
তবুও লায়ন জামিলা নাজনীন কখনো ব্যক্তিগত সুখের কথা ভাবেননি।
মানুষের জন্য লড়াইয়ের অর্থ তিনি হৃদয় দিয়ে বুঝেছেন।
এ কারণেই সীতাকুণ্ডের রাজনীতিতে আজ একটি নাম নীরবে আলোচনায়—
লায়ন জামিলা নাজনীন মাওলা: সংগ্রামের নেপথ্যের নায়িকা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের দীর্ঘ ত্যাগ ও নিরলস সংগ্রামের যথাযথ মূল্যায়ন করবেন সীতাকুণ্ডবাসী—এই প্রত্যাশাই এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
লায়ন জামিলা নাজনীন মাওলা: কারাবন্দি সংগ্রামের নীরব শক্তি, সীতাকুণ্ডের মানুষের সাহসের প্রতীক