সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুহাম্মদ আলাউদ্দীন সিকদার সন্দ্বীপের সার্বিক ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ১২ দফা সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুহাম্মদ আলাউদ্দীন সিকদার সন্দ্বীপের সার্বিক ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ১২ দফা সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
প্রচারিত এক বার্তায় তিনি বলেন, “উন্নয়নের স্লোগান নয়, প্রয়োজন জবাবদিহিতার রাজনীতি। সংসদ সদস্যের কাজ কেবল প্রকল্প ঘোষণা নয়, বরং আইন প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণ এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা।”
তিনি জানান, সন্দ্বীপের দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা। এজন্য নিয়মিত ড্রেজিং, বছরে অন্তত দুইবার ক্যাপিটাল ড্রেজিং, আধুনিক ফেরি ও সী-ট্রাক সংযোজন, নৌ-পুলিশ ও লাইটিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন। পাশাপাশি গুপ্তছড়া-কুমিরা ঘাট ছাড়াও অন্যান্য পুরনো ঘাট চালু করে যোগাযোগে এককেন্দ্রিকতা কমানোর পরিকল্পনার কথা জানান।
বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হলেও সন্দ্বীপে এখনো ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে এই সংকট নিরসনে কাজ করবো।”
শিক্ষা খাতে গুণগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, সন্দ্বীপে কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দূর, অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালু, কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং তরুণদের জন্য ‘ভার্চুয়াল লার্নিং ল্যাব’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তরুণদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সন্দ্বীপের তরুণ-তরুণীদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে “সন্দ্বীপ ডিজিটাল পার্ক/ইনকিউবেশন সেন্টার” গড়ে তোলা হবে। একইসঙ্গে “সন্দ্বীপ জবস” নামে স্থানীয় চাকরি সংযোগকারী অ্যাপ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
দারিদ্র্য বিমোচনে মসজিদভিত্তিক যাকাত ও করযে হাসানা কার্যক্রম চালুর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সুদভিত্তিক ঋণের জাল থেকে নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে মুক্ত করতে সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলে সম্প্রদায় ও অমুসলিম জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
স্বাস্থ্যখাতে তিনি সরকারি হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো, দক্ষিণ সন্দ্বীপে ২০ শয্যার হাসপাতাল উন্নীতকরণ, হারামিয়া ও পৌরসভার হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর উদ্যোগের কথা বলেন। উড়িরচরের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়ন এবং সেখানে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের প্রতিশ্রুতিও দেন।
পর্যটন ও ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সন্দ্বীপের চারপাশের নদী ও সমুদ্রকে কাজে লাগিয়ে টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব। পরিবেশবান্ধব পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তুলে “সুরক্ষিত সন্দ্বীপ, সমৃদ্ধ সন্দ্বীপ, পর্যটনের সন্দ্বীপ” স্লোগানে দ্বীপকে নতুনভাবে ব্র্যান্ডিং করার পরিকল্পনার কথাও জানান।
শেষে তিনি বলেন, “আমি এমপি হলে কোনো পরিবারতন্ত্র, আত্মীয়তন্ত্র বা দলতন্ত্রের সুযোগ থাকবে না। এমপি হিসেবে নিজেকেও জবাবদিহিতার আওতায় রাখবো। জনগণের রাজনীতির মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ সন্দ্বীপ গড়াই আমার অঙ্গীকার।”