আরিফুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক,তাজাখবর ডেস্ক:
চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি পদে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদকে দেখতে চায় চট্টলার যুবসমাজ—এমন দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে।
মুহাম্মদ শাহেদ চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের একজন পরিচিত ও আলোচিত মুখ। দীর্ঘ প্রায় ৩৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি তৃণমূল থেকে উঠে এসে সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। মুহাম্মদ শাহেদ সততা ও দক্ষতার সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কেন্দ্রীয় যুবদলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সহ-সভাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন ।১৯৮৯ সালে চন্দনাইশের সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়।
পরবর্তীতে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ধাপে ধাপে তিনি মহানগর ছাত্রদলের কার্যনির্বাহী সদস্য, পাঁচলাইশ থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, নগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১১ সালে ছাত্রদল থেকে যুবদলে যুক্ত হয়ে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান শাহেদ। পরে ২০১৮ সালের ১ জুন ঘোষিত কমিটিতে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এছাড়া ২০২০ সালে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) হিসেবেও দায়িত্ব পান।
তার রাজনৈতিক জীবনে নানা চড়াই-উৎরাইয়ের কথাও উঠে এসেছে। আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে একাধিক মামলার আসামি হয়েছেন তিনি এবং কারাভোগও করেছেন। এমনকি দুইবার প্রাণঘাতী হামলার মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে।
১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সংঘটিত এক গোলাগুলির ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান শাহেদ। একইভাবে ১৯৯৬ সালে নগরীর বিআরটিসি মোড়ে সংঘর্ষের সময়ও গুলির মুখে পড়েন তিনি। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সংগ্রামে তার ত্যাগ ও সাহসিকতার প্রমাণ পাওয়া যায়।
বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে তিনি দাবি করেন, অতীতের তুলনায় বর্তমান নগর যুবদল অনেক বেশি সক্রিয় ও শক্তিশালী। দলীয় কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ড তারই প্রমাণ বলে মনে করেন তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, “দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তবে আমি চাই, সংগঠনের জন্য আরও বড় পরিসরে কাজ করতে। আগামীতে নগর যুবদলের সভাপতি হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।”
এদিকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, ত্যাগ এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে সভাপতি পদে মুহাম্মদ শাহেদ হতে পারেন একটি গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী নেতৃত্ব।