নিজস্ব প্রতিবেদক তাজাখবর ডেস্ক :
ঈদ-উল-ফিতর পরবর্তী সময়ে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, খুলনা, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলায় পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।
কোথাও সরবরাহ বন্ধ, কোথাও সীমিত বিক্রি—ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালকরা।
সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তেল না পেয়ে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন। কর্মজীবী মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
⚠️ সংকটের মূল কারণ কী?
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটির কারণে ব্যাংক বন্ধ থাকায় পে-অর্ডার প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। ফলে ফিলিং স্টেশন মালিকরা ডিপো থেকে তেল তুলতে পারেননি। এর ফলে সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি প্রকৃত সংকট নয় বরং ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা ও সমন্বয়হীনতার ফল।
⛽ মজুদের অবস্থা (চিন্তার কারণ)
ডিজেল মজুদ: মাত্র ১৪ দিনের
অকটেন: ৯ দিনের
পেট্রল: ১১ দিনের
সাধারণত ২০–২৫ দিনের মজুদ নিরাপদ ধরা হলেও বর্তমানে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
🌍 বৈশ্বিক প্রভাবও বড় কারণ
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি আমদানির সময়সূচি ভেঙে পড়েছে। নির্ধারিত ১৭টি জাহাজের মধ্যে এখন পর্যন্ত পৌঁছেছে মাত্র ৮টি, বাকি জাহাজগুলোর আগমন অনিশ্চিত।
🚨 মাঠের বাস্তব চিত্র
ঢাকায় আসাদগেট, বিজয় সরণি, খিলক্ষেতে তীব্র ভিড়
চট্টগ্রাম ও খুলনায় পাম্পে “তেল নেই” সাইন
সাতক্ষীরায় অধিকাংশ স্টেশন বন্ধ
অনেক জায়গায় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ
🐟 কৃষি ও মৎস্য খাতে প্রভাব
কক্সবাজারে জ্বালানির অভাবে:
অর্ধেকের বেশি মাছ ধরার নৌকা বন্ধ
বাজারে মাছের সরবরাহ কমার আশঙ্কা
লবণ চাষ ও কৃষিতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত
🗣️ বিশেষজ্ঞ মতামত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—
দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে আমদানি নিশ্চিত করতে হবে
চাহিদা নিয়ন্ত্রণ জরুরি
প্রয়োজনে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হতে পারে