খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙা কেন স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী?

জাতীয় বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:৩২, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রমজান মাসে ইফতারের শুরুতেই খেজুর—এটি শুধু ধর্মীয় ঐতিহ্য নয়, বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিত এক স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।

বিশ্বের কোটি মুসলমান সূর্যাস্তের পর খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙেন, যা পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং দীর্ঘ সময় উপবাসের পর শরীরকে দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়ক।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পুষ্টিবিদ শাহনাজ বশিরের মতে, সারাদিন না খেয়ে থাকার পর শরীরের প্রথম চাহিদা হলো দ্রুত শক্তি। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক চিনি—গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ—রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। পাশাপাশি এতে রয়েছে জটিল কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন A, K, B6, আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা রোজাদারের শরীরকে পুষ্টি ঘাটতি থেকে রক্ষা করে।

শুকনো ফল হলেও খেজুর শরীরের পানির ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। এতে থাকা পটাশিয়াম কোষে তরল ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখে। তাই ইফতারে খেজুর ও পানি একসঙ্গে গ্রহণ করলে দ্রুত হাইড্রেশন নিশ্চিত হয়।

হজমের দিক থেকেও খেজুর কার্যকর। এতে থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার অন্ত্রের গতি স্বাভাবিক রাখে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং পেট ফাঁপা প্রতিরোধে সাহায্য করে। National Health Service (NHS)–এর তথ্য অনুযায়ী, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রায় ৩০ গ্রাম ফাইবার প্রয়োজন—খেজুর সেই চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ইফতারের শুরুতে খেজুর খেলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমে যায়। ফলে খাদ্যাভ্যাস থাকে নিয়ন্ত্রিত ও ভারসাম্যপূর্ণ।

যারা সরাসরি খেজুর খেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, তারা স্মুদি, দুধ, দই বা বাদামের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে স্বাদ ও পুষ্টি—দুই-ই নিশ্চিত হয়।

সব মিলিয়ে, খেজুর শুধু সুন্নাহসম্মত খাদ্যই নয়; এটি রোজাদারের জন্য প্রাকৃতিক শক্তির উৎস, হজম সহায়ক ও পুষ্টির ভারসাম্য রক্ষাকারী একটি আদর্শ ইফতার

খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙা কেন স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী?

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *