রমজানের প্রথম দিনেই সবজির বাজারে আগুন, স্বস্তিতে চাল-ডাল ও নিত্যপণ্য

অর্থনীতি জাতীয় বাংলাদেশ রাজনীতি
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:৪৭, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১১:১৭, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই ঝিনাইদহ-এর বাজারে দেখা গেছে মিশ্র চিত্র।

চাল, ডাল ও ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও ইফতারির প্রধান উপকরণ সবজির বাজারে লেগেছে উত্তাপ। বিশেষ করে বেগুন, শসা ও লেবুর দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে।

বুধবার সকালে ডাকবাংলা বাজার-সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও বড় বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হওয়া বেগুন এখন মানভেদে ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসার দাম বেড়ে ৭০-৮০ টাকায় উঠেছে। আলু কেজি ২০ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ টাকা, রসুন ১১০-১২০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, রমজানকে ঘিরে চাহিদা বৃদ্ধিই এ দামের মূল কারণ।

রমজানের অন্যতম পণ্য ছোলার বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল। দেশি ছোলা ৯০-১০০ টাকা এবং আমদানিকৃত ছোলা ৮০-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে চিনির বাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে—লাল চিনি ১৫০-১৬০ টাকা ও সাদা চিনি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে খেজুরের দাম শুরু ৩৫০ টাকা থেকে।

সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, চাল-ডালের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সবজির হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো চাপে পড়েছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে সরকারি নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ক্রেতা ইসমাইল হোসেন বলেন, “আগের মতো অস্বাভাবিক দাম বাড়েনি, এটা ইতিবাচক। তবে সবজির বাজারে নজরদারি বাড়ানো দরকার।”

অপর ক্রেতা সাবানা খাতুনের ভাষ্য, “লেবু, শসা, বেগুন ও করোলার দাম বেড়েছে। এক হালি লেবু ৪০-৬০ টাকা। বাজার মনিটরিং বাড়ানো জরুরি।”

বিক্রেতা আনারুল ইসলাম জানান, “কাঁচামালের দাম স্বাভাবিক ওঠানামার মধ্যেই আছে। যোগান ও চাহিদার ওপরই দাম নির্ভর করছে।”

পাইকারি ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, “ছোলা, বুট, ভোজ্যতেল ও চিনির দাম স্থিতিশীল। বাজারে এখন সিন্ডিকেট নেই বললেই চলে। রমজান উপলক্ষে বেচাকেনাও বেড়েছে।”

এ বিষয়ে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহের জানান, রমজানকে সামনে রেখে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বাজার সিন্ডিকেট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং পুরো রমজান মাসজুড়ে মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

রমজানের শুরুতেই বাজারের এই মিশ্র চিত্রে স্বস্তি ও উদ্বেগ—দুটোই থাকছে সাধারণ মানুষের মনে। এখন নজরদারি ও সরবরাহ পরিস্থিতিই ঠিক করবে সামনে বাজারের গতি কোন দিকে যাবে।

রমজানের প্রথম দিনেই সবজির বাজারে আগুন, স্বস্তিতে চাল-ডাল ও নিত্যপণ্য

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *