আরিফুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক, তাজাখবর র্ডেস্ক :
চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য, উচ্চশিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত স্বচ্ছতার সমন্বয়ে তিনি ইতোমধ্যেই নিজেকে একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছেন।
হাটহাজারীর এই কৃতী সন্তান প্রয়াত সংসদ সদস্য সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কন্যা। বিএনপির হয়ে চারবার নির্বাচিত এই বর্ষীয়ান নেতার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এখন নতুনভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে তাঁর কন্যার নেতৃত্বে।
শিক্ষাজীবনে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি দ্য সিটি ল’ কলেজ, লন্ডন থেকে পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা নিয়ে নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের আইনজীবী হিসেবে গড়ে তুলেছেন।
২০০৯ সালে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। রাজপথের আন্দোলন, দলীয় কর্মকাণ্ড এবং উচ্চ আদালতে রাজনৈতিক মামলায় সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে তিনি দ্রুত দলের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। ২০১৫ সালে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ১০ মাস কারাভোগ তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে।
বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সক্রিয় সম্পৃক্ততা তাঁকে দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে রাখে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় আসেন। বিশেষ করে তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় ঋণমুক্ত অবস্থান বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে একটি জিপ গাড়ি, প্রায় ৫৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা এবং চট্টগ্রামে একটি ফ্ল্যাট। তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যা মূলত আইন পেশা ও সম্পত্তি থেকে আসে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেখানে অনেক প্রার্থীর ওপর ঋণের চাপ থাকে, সেখানে সাকিলা ফারজানার ঋণমুক্ত অবস্থান তাঁকে নৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম করে তুলেছে।
নিজের মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, দলের এই আস্থা তাঁর জন্য গর্বের পাশাপাশি বড় দায়িত্ব। দেশের মানুষের জন্য বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি হাটহাজারীর জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
চট্টগ্রাম ও হাটহাজারীর বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা, তাঁর সংসদে অন্তর্ভুক্তি দলকে আরও সুসংহত করবে এবং স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির একটি ইতিবাচক ধারা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং ব্যক্তিগত স্বচ্ছতার সমন্বয়ে ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা এখন বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতির এক সম্ভাবনাময় নক্ষত্র।