প্রাণের ঝুঁকি, কোটি টাকার প্রলোভন ও দমন-পীড়ন উপেক্ষা করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ—বির্জা খাল রক্ষায় অনন্য দৃষ্টান্ত

জাতীয় বাংলাদেশ রাজনীতি
আরিফুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক তাজাখবর ডেস্ক:

চট্টগ্রাম নগরীর পূর্ব বাকলিয়ার প্রাণপ্রবাহ বির্জা খাল একসময় দখলদারদের কবলে পড়ে কার্যত মৃতপ্রায় হয়ে উঠেছিল। খালের বুক চিরে নির্মিত অবৈধ ব্রিজ ও স্থাপনার কারণে বন্ধ হয়ে যায় ঐতিহ্যবাহী নৌপথ, সৃষ্টি হয় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং চরম ভোগান্তিতে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা।

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ২০১৫ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত টানা চার থেকে পাঁচ বছর ধরে গড়ে ওঠে এক আপসহীন ও সাহসী সামাজিক আন্দোলন। ব্যক্তি উদ্যোগ, আইনি লড়াই এবং রাজপথের ধারাবাহিক কর্মসূচির সমন্বয়ে পরিচালিত এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও দৈনিক মানবকণ্ঠের ব্যুরোচিফ আলমগীর নূর—যিনি এ সংগ্রামের প্রধান মুখ ও সাহসী সৈনিক হিসেবে পরিচিত।

আন্দোলনের পুরো সময়জুড়ে আন্দোলনকারীদের মোকাবিলা করতে হয় একের পর এক বাধা। কোটি টাকার প্রলোভন, প্রশাসনিক চাপ, এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও তাদের পথচলা থামাতে পারেনি। অভিযোগ রয়েছে, আন্দোলন দমাতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তবে ভয়ভীতি ও দমন-পীড়নকে উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা ছিলেন অটল, আপসহীন এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

দীর্ঘদিনের ত্যাগ-সংগ্রামের পর অবশেষে জনশক্তির কাছে পরাজিত হয় দখলদার চক্র। অবৈধ ব্রিজ ও স্থাপনা উচ্ছেদের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার হয় বির্জা খালের স্বাভাবিক প্রবাহ—ফিরে আসে খালের প্রাণ, স্বস্তি ফিরে পায় এলাকাবাসী।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই অর্জনের পেছনে আন্দোলনের সহযোদ্ধা, গণমাধ্যমকর্মী এবং প্রশাসনের কিছু ইতিবাচক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিশেষ করে তৎকালীন জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা আন্দোলনকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়।

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, এটি কোনো প্রচারণামূলক বা লোকদেখানো উদ্যোগ ছিল না; বরং জনস্বার্থে জীবন বাজি রেখে পরিচালিত এক ঐতিহাসিক সামাজিক সংগ্রাম—যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সবশেষে, বির্জা খাল রক্ষার এই আন্দোলন একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—নৈতিক সাহস, জনসম্পৃক্ততা ও অটল নেতৃত্ব থাকলে অবৈধ দখলদারিত্ব ও শক্তিশালী চক্রকেও পরাজিত করা সম্ভব।

প্রাণের ঝুঁকি, কোটি টাকার প্রলোভন ও দমন-পীড়ন উপেক্ষা করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ—বির্জা খাল রক্ষায় অনন্য দৃষ্টান্ত

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *