আরিফুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক তাজাখবর ডেস্ক:
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা জানিয়ে তাঁদের হাতে ডায়েরি তুলে দেওয়ার এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য—মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত ইতিহাস সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
বুধবার (২৫ মার্চ) নগরের হালিশহরের জে.পি কনভেনশন হলে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা ও আলোচনা সভায় ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা জানানোর পাশাপাশি প্রত্যেককে একটি করে আকর্ষণীয় খালি ডায়েরি উপহার দেওয়া হয়। আয়োজকদের ভাষ্য, এই ডায়েরিগুলো কেবল উপহার নয়, বরং ইতিহাস রচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
উদ্যোগটির পেছনে রয়েছে সময়োপযোগী একটি উপলব্ধি—মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ সাক্ষীরা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা, যুদ্ধের স্মৃতি, সংগ্রাম ও স্বপ্নের গল্প অনেকাংশেই অপ্রকাশিত থেকে যাচ্ছে। তাই এসব স্মৃতিকে লিখিত আকারে সংরক্ষণ এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাঈদ আল নোমান বলেন, “মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হলেও তাঁদের অনেক অজানা গল্প এখনও ইতিহাসের পাতায় স্থান পায়নি। তাঁরা যদি নিজেদের অভিজ্ঞতা নিজের ভাষায় লিপিবদ্ধ করেন, তবে সেটিই হবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও হৃদয়গ্রাহী দলিল।”
তিনি আরও জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের লেখা এসব ডায়েরি পরবর্তীতে সংগ্রহ করে গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের স্বপ্ন ও বাস্তবতার চিত্রও উঠে আসবে।
সভায় বক্তারা বলেন, পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে জীবন্তভাবে তুলে ধরতে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর। ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণই ইতিহাসকে প্রাণবন্ত করে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডায়েরি উপহার এবং ২৫ মার্চের প্রাক্কালে অর্ধশতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা জানানোর এই উদ্যোগ একদিকে তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছে, অন্যদিকে ইতিহাস সংরক্ষণের একটি টেকসই পথও তৈরি করেছে। এটি ভবিষ্যতে মুক্তিযুদ্ধের বহু অজানা অধ্যায় উন্মোচনে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দীন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন প্রফেসর সিদ্দিক আহম্মেদ, এম এ সবুর, শেখ নুরুল্লাহ বাহারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।