যেভাবে পূণ্যময় হবে আপনার শবে কদর

জাতীয় ধর্ম বাংলাদেশ
দৈনিক তাজাখবর ডেস্ক,প্রকাশিত: ১৬ মার্চ ২০২৬

রমজান মাসকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়—প্রথম দশক রহমতের, দ্বিতীয় দশক মাগফিরাতের এবং শেষ দশক নাজাতের।

ইতোমধ্যে রহমত ও মাগফিরাতের দশক অতিক্রম করে মুসলিম উম্মাহ প্রবেশ করেছে নাজাতের দশকে। এই শেষ দশক রোজাদারদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ সময়েই মুসলমানরা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম মহিমান্বিত রাত লাইলাতুল কদর বা শবে কদর অনুসন্ধান করেন।

ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমত ও নিয়ামত লাভ করা যায়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

“লাইলাতুল কদরে যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় কিয়াম করবে, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।”

(সহিহ মুসলিম: ৭৬০; সহিহ বুখারি: ২০১৪)

শবে কদরের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হওয়া চরম দুর্ভাগ্যের বিষয়। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

“রমজান মাসে এমন একটি রাত রয়েছে, যা এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এ রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়, সে যেন সব কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হলো।”

(সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৬৪৪)

শবে কদরের নামাজের নিয়ত

নিয়ত করার সময় বলা যেতে পারে—

নাওয়াইতু আন উছাল্লিয়া লিল্লাহি তা’য়ালা রাকআতাই সালাতিল লাইলাতিল কাদরি নফলে মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শরীফাতি—আল্লাহু আকবার।

অর্থ:

আমি কাবামুখী হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য শবে কদরের দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম—আল্লাহু আকবার।

শবে কদরের নামাজের নিয়ম

শবে কদরের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ নামাজের পদ্ধতি নির্ধারিত নেই। তবে কিছু আমল করলে এ রাতের ইবাদত আরো বেশি ফজিলতপূর্ণ হতে পারে—

দুই রাকাত করে যত ইচ্ছা নফল নামাজ আদায় করা

মনোযোগসহ কোরআন তেলাওয়াত করা

বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তেগফার করা

তওবা করে নেক আমল বৃদ্ধি করা

এই রাতের মূল লক্ষ্য হলো আন্তরিকভাবে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা এবং তাঁর ক্ষমা লাভের চেষ্টা করা।

শবে কদরের বিশেষ দোয়া

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন—লাইলাতুল কদরে কোন দোয়া পড়া উত্তম? উত্তরে তিনি বলেন—

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।

অর্থ:

হে আল্লাহ! আপনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।

(মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

যেভাবে পূণ্যময় হবে আপনার শবে কদর

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *