আরিফুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক তাজাখবর ডেস্ক:
পবিত্র মাহে রমজানের মহিমান্বিত তাৎপর্য ও ঐতিহাসিক বদর দিবসের শিক্ষা সামনে রেখে ইখওয়ান ইসলামী পাঠাগার,
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খল ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে পাঠাগারের সম্মানিত সভাপতি হাফেজ মাওলানা মো. সোহরাব উদ্দিন সৌরভ এর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন আরব এর সঞ্চালনায় কর্মসূচি শুরু হয়। শুরুতেই পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন প্রভাষক মো. আহসান উল্লাহ। পবিত্র কুরআনের তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হলে উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের মাঝে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রখ্যাত ইসলামী ব্যক্তিত্ব মাওলানা মো. আজিজুর রহমান। তিনি তার বক্তব্যে মাহে রমজানের গুরুত্ব ও বদর দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, রমজান কেবল রোজা পালনের মাস নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন, ধৈর্য, সংযম এবং মানবিক গুণাবলি বিকাশের এক মহামূল্যবান সুযোগ। তিনি বলেন, বদর দিবস আমাদেরকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার শিক্ষা দেয়। ঈমান, ত্যাগ ও ঐক্যের শক্তিতে মুসলমানরা যেকোনো প্রতিকূলতাকে জয় করতে পারে—এই শিক্ষাই বদরের ময়দান থেকে আমরা পাই।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যাংকার আখতার জামান, ইফতেখারুল আলম, ইকবাল হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম, মহিবুল সাজিব ও মহিউদ্দিন আরিফ। তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, মাহে রমজান মানুষকে নৈতিকতা, মানবিকতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার শিক্ষা দেয়। সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তুলতে ইসলামের শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ও বিভাজনের এই সময়ে ইসলামের মানবিক শিক্ষা এবং কুরআনের আদর্শকে সামনে রেখে কাজ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবকল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানে ইখওয়ান ইসলামী পাঠাগারের সদস্যবৃন্দ, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এবং ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে এক আত্মিক আবহ তৈরি হয়।
আলোচনা শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি। এতে উপস্থিত সকলেই গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন।
পরে উপস্থিত সকল অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরা একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। ইফতারের মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। ইফতার শেষে মাগরিবের নামাজ আদায় করা হয়।
নামাজ শেষে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতা ও কফি আড্ডার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অংশগ্রহণকারীরা জানান, এ ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজন মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, মানবিকতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।