নিজস্ব প্রতিবেদক:
পবিত্র রমজান মাসের সমাপ্তি ও ঈদুল ফিতরের আনন্দকে সার্বজনীন করতে ইসলামে সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা আদায়ের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
রোজা পালনকারীদের আত্মশুদ্ধি এবং দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্দেশ্যে ফিতরা ওয়াজিব করা হয়েছে।
🍂 ফিতরা কী?
‘সদকাতুল ফিতর’ অর্থ ঈদুল ফিতরের দান। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদের আগে মুসলমানরা যে বাধ্যতামূলক সদকা আদায় করেন, সেটিই ফিতরা বা জাকাতুল ফিতর নামে পরিচিত।
✅ কার ওপর ফিতরা ওয়াজিব?
ফিতরা আদায় করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর ওয়াজিব।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত—
রাসুলুল্লাহ (সা.) ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, স্বাধীন ও দাস—সব মুসলমানের ওপর এক ‘সা’ পরিমাণ খাদ্য ফিতরা নির্ধারণ করেন এবং ঈদের নামাজের আগেই তা আদায়ের নির্দেশ দেন।
(সহিহ বুখারি: ১৫০৩)
👉 যাদের ওপর ফিতরা ওয়াজিবঃ
যার কাছে ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময়
নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বাদে
সাড়ে ৭ ভরি সোনা বা সাড়ে ৫২ ভরি রুপার সমমূল্যের সম্পদ থাকে।
⚠️ জাকাতের মতো এক বছর পূর্ণ হওয়া এখানে শর্ত নয়।
👨👩👧 পরিবারের প্রধান আদায় করবেন—
নিজের পক্ষ থেকে
স্ত্রী
সন্তান
নির্ভরশীল সদস্যদের পক্ষ থেকে।
🎯 ফিতরা কেন দেওয়া হয়?
ইসলামি শরিয়তে ফিতরার গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য—
✔ রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতির কাফফারা
✔ দরিদ্র মানুষের ঈদের আনন্দ নিশ্চিত করা
✔ ধনী-দরিদ্রের ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলা
✔ আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
🌾 ফিতরার পরিমাণ ও উপকরণ
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে যেসব খাদ্য দিয়ে ফিতরা আদায় হতো—
খেজুর
যব
কিশমিশ
পনির
পরিমাণ: এক ‘সা’ (প্রায় ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম খাদ্য)
(সহিহ বুখারি: ১৫০৬)
💰 টাকা দিয়ে ফিতরা দেওয়া যাবে?
হ্যাঁ। বর্তমানে খাদ্যের বাজারমূল্য অনুযায়ী নগদ অর্থ দিয়েও ফিতরা আদায় করা জায়েজ।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ নির্ধারিত হার অনুযায়ী—
সর্বনিম্ন: ১১০ টাকা (গমের হিসাবে)
সর্বোচ্চ: ২,৮০৫ টাকা (পনিরের হিসাবে)
👉 সামর্থ্যবানদের উচিত উন্নত মানের খাদ্যের মূল্য অনুযায়ী ফিতরা দেওয়া।
⏰ ফিতরা আদায়ের সঠিক সময়
✔ রমজান মাসে যেকোনো সময় দেওয়া জায়েজ
✔ ঈদের নামাজের আগে দেওয়া উত্তম
❌ নামাজের পর দিলে সাধারণ সদকা হিসেবে গণ্য হয়
📌 উত্তর দিয়েছেন:
মুফতি শাব্বির আহমদ
ইসলামবিষয়ক গবেষক