নেক্সাস গ্রুপে এমডিকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ | মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০২৫
নেক্সাস গ্রুপে এমডিকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ
ময়মনসিংহের নারায়ণখোলায় অবস্থিত নেক্সাস গ্রুপের কাঠ প্রসেসিং ফ্যাক্টরিকে ঘিরে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা অবশেষে বড়সড় ক্ষমতার সংঘাতে রূপ নিয়েছে। ষড়যন্ত্র ও চাপের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন প্রতিষ্ঠানের এমডি ড. মতিউর রহমান। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন অনন্যা-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন মুকুল।
ফ্যাক্টরির শ্রমিকদের আন্দোলন চলমান থাকায় ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে শ্রম আইন ভঙ্গ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আন্দোলন দমনে অর্থ খরচের অভিযোগ উঠেছিল। এ সময় হেড অব ম্যানেজমেন্ট জান্নাতুল ফেরদৌস অনন্যা শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে মানবতার স্লোগান ব্যবহার করলেও, এমডি ড. মতিউর রহমান অবস্থান নেন ভিন্ন পথে। তিনি অন্যায় রুখতে জান্নাতুল ফেরদৌস অনন্যার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দুইজন কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করেন।
পরদিনই আবদুল্লাহ আল আমিন মুকুল নতুন এমডি হিসেবে যোগ দেন। তার নেতৃত্বে জান্নাতুল ফেরদৌস অনন্যা ও ঘনিষ্ঠ অনুসারীরা অফিসে প্রবেশ করে ঘোষণা দেন— “সবকিছু আমাদের। আমরা শেয়ারহোল্ডার। আমাদের জন্য কোনো কনস্টিটিউশন নেই।” এর ফলে অফিস পরিবেশ একপ্রকার উত্তেজনা ও ক্ষমতার প্রদর্শনীতে পরিণত হয়।
ঘটনার পর একটি প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে— ২০২১ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে কীভাবে জান্নাতুল ফেরদৌস অনন্যা নেক্সাসে প্রবেশ করেছিলেন, যেখানে নিয়ম অনুযায়ী ১৮ বছরের আগে প্রবেশের সুযোগ নেই। তবে এর কোনো সঠিক ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি।
নতুন এমডির দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষ, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব মিলিয়ে নেক্সাস গ্রুপের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নেক্সাস গ্রুপে এমডিকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ
তথ্যসূত্র সংগ্রহ – নুর মোহাম্মদ (ফ্রীল্যান্স রিপোর্টার্স)