চিকিৎসার জন্য গিয়ে হাসপাতালেই পিটুনিতে পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু।
ঢাকার আদাবরে একটি মানসিক রোগ নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসার নামে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত আনিসুল করিম বরিশাল মহানগর ট্রাফিক পুলিশের সহকারী কমিশনারের পদে ছিলেন। তার বাড়ি গাজীপুরে, আদাবরের ‘মাইন্ড এইড’ নামের মানসিক রোগ নিরাময় কেন্দ্রে সোমবার তাকে পিটিয়ে মারা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আনিসুল ৩১তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন বলে তার সহকর্মীরা জানান।
তিনি বরিশাল থেকে সোমবারই গাজীপুরের বাসায় গিয়েছিলেন বলে জানান আদাবর থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) ফারুক মোল্লা।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তিনি (আনিসুল) মানসিকভাবে একটু অসুস্থ থাকায় এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।”
আনিসুলকে মাইনড এইডে নিয়ে গিয়েছিলেন তার বোন।
ডিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার মৃত্যুঞ্জয় দে সজল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সহকারী কমিশনার আনিসুল করিমকে কয়েকজন মিলে চিকিৎসার নামে এলোপাতাড়ি মারধর করে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।”
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রশিক্ষিত নয়, হাসপাতালের এমন কিছু ব্যক্তি তাকে চিকিৎসার নামে মারধর করে। এতে তিনি প্রাণ হারান। পুলিশ খবর পেয়ে বেলা দেড়টার দিকে লাশ উদ্ধার করে।”
ঘটনার পর হাসপাতালের আটজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক মোল্লা।
উপকমিশনার হারুন বলেন, সেখানে আসলে কী ঘটেছিল তা জানতে তারা হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করেছেন।
“দেখা গেছে কয়েকজন মিলে মারতে মারতে আনিসুল করিমকে হাসপাতালের দোতলার একটি রুমে ঢোকায়। সেখানে তাকে মেঝেতে উপুড় করে শুইয়ে ফেলা হয় এবং তিন-চারজন পিঠের উপর হাঁটু দিয়ে চেপে বসে। কয়েকজন তার হাত ওড়না দিয়ে পিছমোড়া করে বেঁধে ফেলে।
“কয়েকজন আসামি কনুই দিয়ে তার ঘাড়ের পেছনে ও মাথায় আঘাত করে। একজন মাথার উপরে চেপে বসে এবং সকলে মিলে পিঠ, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে আনিসুল করিম নিস্তেজ হয়ে পড়েন।”
এ ঘটনায় আনিসুলের বাবা ফাইজ্জুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালটির ১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তাদের মধ্যে এই ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ৩৩ ব্যাচের ছাত্র আনিসুল করিম ৩১তম বিসিএসে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। বরিশালের আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ, র্যাব ও পুলিশ সদরদপ্তরেও কাজ করেছেন।