আরিফুল ইসলাম,নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
দেড় শতাধিক গ্রন্থের রচয়িতা এবং তিন হাজারেরও অধিক গানের গীতিকার, বিশিষ্ট কবি, সাহিত্য গবেষক ও জাতীয় সাংস্কৃতিক মঞ্চ এবং জাতীয় কবিতা মঞ্চের সভাপতি মরহুম মাহমুদুল হাসান নিজামীকে স্মরণ করে
চট্টগ্রামে এক শোকসভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা বলেন, তাঁর সৃষ্টিশীল সাহিত্যকর্ম ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি দেশের মানুষের হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকবেন।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি হলে জাতীয় সাংস্কৃতিক মঞ্চ চট্টগ্রামের উদ্যোগে আয়োজিত শোকসভা ও ইফতার মাহফিলে বক্তারা এসব কথা বলেন। তারা উল্লেখ করেন, কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী কেবল একজন কবি বা গীতিকারই ছিলেন না; তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী একজন সাহিত্য সাধক ও বহুভাষাবিদ। সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদান বাংলা সাহিত্যভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।
বক্তারা বলেন, এত বড় একজন গুণী ব্যক্তিত্বকে জীবদ্দশায় একুশে পদক বা স্বাধীনতা পদকের মতো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না দেওয়া জাতি হিসেবে আমাদের জন্য দুঃখজনক। তাই তাঁর অবদানকে মূল্যায়ন করে মরনোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
জাতীয় সাংস্কৃতিক মঞ্চ চট্টগ্রামের সভাপতি সাংবাদিক কামরুল হুদার সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গীতিকার ও সাংবাদিক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সাংস্কৃতিক মঞ্চের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার সানজীদ রশীদ চৌধুরী। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক আমাদের দেশ-এর আবাসিক সম্পাদক জাহিদুল করিম কচি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বৈশাখী টিভি চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা মুরাদ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হিন্দু ধর্ম কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য দীপক কুমার পালিত, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের পাঠাগার সম্পাদক ও ইসলামিক টিভির ব্যুরো প্রধান শহীদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আব্দুল্লাহ, চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর নুর, চট্টগ্রাম এডিটর ক্লাবের সভাপতি এম আলী হোসেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার চৌধুরী মাহবুব, কবি ও সাংবাদিক কামাল পারভেজ, নাট্যকার রতন চক্রবর্তী, মাহবুব মওলা রিপন, জাতীয় সাংস্কৃতিক মঞ্চের সদস্য সাংবাদিক ইমতিয়াজ ফারুকী, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী আবু সুফিয়ান, বাঁশখালী উপকূলীয় পাবলিক লাইব্রেরির সভাপতি সাইফী আনোয়ার, অধ্যক্ষ মুখতাদের আজাদ খান এবং নেজামী ইসলাম পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আনোয়ার হোসাইন রাব্বানী।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের সুরকার ও গীতিকার দিলীপ ভারতী, সংগীতশিল্পী সুপর্ণা মুৎসুদ্দী লোপা, চন্দনা চক্রবর্তী, মৌ চৌধুরী, ফরিদুল ইসলাম, সংগীতশিল্পী ও গীতিকার আকতার হোসেন, নারী উদ্যোক্তা সুপর্ণা মুৎসুদ্দী শুক্লা ও তানিয়া ভূইয়া, সাংবাদিক তৌহিদুল ইসলাম, কবি কে. এম. আলী হাসান, সাংস্কৃতিক সংগঠক জসিম উদ্দিন চৌধুরী, মাওলানা হারুন, মাওলানা হারুন নিজামী, মাওলানা আকবর হাসান, হাফেজ তৌহিদুল ইসলাম, মাওলানা ইমরান, কবি নিলয় দাশ, কবি আরিফুল ইসলাম, নুরুল আলম চৌধুরী, মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা মরহুম কবি মাহমুদুল হাসান নিজামীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর সমৃদ্ধ সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান। তারা বলেন, তাঁর সাহিত্য, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক অবদান বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।