নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক তাজাখবর ডেস্ক:
ভোররাতে সেহরির জন্য খাবার প্রস্তুত হচ্ছিল। সহকর্মীদের সঙ্গে হাসি-আড্ডার মধ্যেই নতুন দিনের অপেক্ষা করছিলেন তিনি।
পরিবারকে টাকা পাঠিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন ছিল চোখে। কিন্তু মুহূর্তেই সব শেষ—একটি বিকট বিস্ফোরণ কেড়ে নিল জীবনের সব আলো।
বাহরাইনে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক মো. তারেক (৫৫)।
গতকাল বাহরাইন সময় রাত আনুমানিক ২টায় (বাংলাদেশ সময় ভোর প্রায় ৫টা) আল হিদ ড্রাইডক এলাকায় অবস্থিত আরব শিপবিল্ডিং অ্যান্ড রিপেয়ার ইয়ার্ড (ASRY)-এ কর্মরত অবস্থায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শিপইয়ার্ডটি মিনহাজ সালমান এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক নৌঘাঁটির পাশেই অবস্থিত বলে জানা গেছে।
💥 সেহরির আগে মৃত্যু
সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, মার্কিন নৌঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরান থেকে ছোড়া একটি ড্রোন বিস্ফোরিত হলে তার ধ্বংসাবশেষ ছিটকে এসে কর্মরত জাহাজে আঘাত হানে। ওই সময় ‘স্টেনা ইম্পেরেটিভ’ নামের জাহাজে মেরামত কাজে নিয়োজিত ছিলেন তারেক।
বিস্ফোরণের পর ড্রোনের ধাতব অংশ সরাসরি তার শরীরে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
নিহতের জেঠাতো ভাই ও সহকর্মী নুর হোসেন বেলাল বলেন—
“আমরা সবাই সেহরি খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। দৌড়ে গিয়ে দেখি জাহাজের ভেতরে ড্রোনের ভাঙা অংশ পড়ে আছে… তারেক ভাই আর বেঁচে নেই।”
⚠️ আহত আরও শ্রমিক
এ ঘটনায় আরও দুই থেকে তিনজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সন্দ্বীপের মুছাপুর এলাকার আজিম ভূঁইয়ার বাড়ির নাজিম উদ্দিন (৪০) রয়েছেন। অন্যদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
🕊️ ২৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষ
নিহত মো. তারেক সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর এলাকার পাহাড়েরগো বাড়ির মৃত ছায়েদুল হকের ছেলে। প্রায় ২৭ বছর ধরে বাহরাইনে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবার চালিয়ে আসছিলেন তিনি।
চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর বউবাজার আমতলী এলাকায় বসবাসরত তার পরিবারে তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
একটি ড্রোন হামলা শুধু একজন মানুষকে হত্যা করেনি—নিঃস্ব করে দিয়েছে একটি পরিবারকে, থামিয়ে দিয়েছে বহু স্বপ্ন।
আজ পরিবারের জন্য সেহরির খাবার ছিল, কিন্তু সেই পরিবারেরই ভরসা মানুষটি আর ফিরবেন না জীবিত হয়ে।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।