রোজা অবস্থায় পিরিয়ড শুরু হলে করণীয়

জাতীয় ধর্ম বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক| ধর্ম ও জীবন

প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১১ এএম

পবিত্র রমজান মাসে রোজা পালন মুসলমানদের জন্য ফরজ ইবাদত। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন—

“হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর—যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।”

(সূরা আল-বাকারা: ১৮৩)

পিরিয়ড শুরু হলে রোজার বিধান

রমজান মাসে কোনো নারীর ঋতুস্রাব (পিরিয়ড) শুরু হলে তার জন্য রোজা রাখা বৈধ নয়। ইসলাম নারীর স্বাভাবিক শারীরিক অবস্থাকে বিবেচনায় রেখে সহজ বিধান দিয়েছে। এ সময় রোজা ভেঙে ফেলতে হবে এবং পরবর্তীতে সেই রোজাগুলো কাজা আদায় করতে হবে।

রোজা অবস্থায় হঠাৎ পিরিয়ড শুরু হলে কী করবেন?

দিনের যেকোনো সময় পিরিয়ড শুরু হলে রোজা আর বহাল থাকবে না।

সঙ্গে সঙ্গে রোজা ভেঙে খাওয়া-দাওয়া করা জায়েজ।

ধর্মীয়ভাবে এতে কোনো গুনাহ নেই।

তবে অন্য রোজাদারদের সম্মান রক্ষায় প্রকাশ্যে না খেয়ে নির্জনে খাওয়া উত্তম।

কোরআনের নির্দেশনা

মহান আল্লাহ বলেন—

“আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ চান, কষ্ট চান না।”

(সূরা আল-বাকারা: ১৮৫)

অর্থাৎ অসুস্থতা, সফর বা বিশেষ শারীরিক অবস্থার মতো নারীর ঋতুস্রাবকালেও রোজা পরবর্তীতে পূরণ করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

নামাজ ও রোজার পার্থক্য

ঋতুস্রাব চলাকালে—

✅ নামাজ পড়তে হবে না

✅ নামাজের কাজাও নেই

✅ রোজা রাখা যাবে না

✅ পরে রোজার কাজা করতে হবে

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত—

“আমাদের ঋতুস্রাব হলে রোজার কাজা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হতো, কিন্তু নামাজের কাজা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হতো না।”

(সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

ইসলামের দৃষ্টিতে বিষয়টি

পিরিয়ড কোনো দোষ বা অস্বাভাবিক বিষয় নয়; এটি নারীর স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। ইসলামে নারীদের কষ্ট লাঘব ও সহজতার জন্যই এ সময় নামাজ ও রোজা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সংক্ষেপে:

পিরিয়ড শুরু হলে রোজা ভেঙে ফেলবেন, পরে সুবিধামতো কাজা আদায় করবেন—এটাই শরিয়তের বিধান।

রোজা অবস্থায় পিরিয়ড শুরু হলে করণীয়

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *