নিজস্ব প্রতিবেদক | সিলেট
বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি)।
অভিযোগ নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনায় গেলে পরিস্থিতি বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতি ও মারামারিতে গড়ায়। এতে উপাচার্যসহ (ভিসি) বেশ কয়েকজন শিক্ষক আহত হয়েছেন। তবে কারও অবস্থা গুরুতর নয় বলে জানা গেছে।
কীভাবে ঘটল সংঘর্ষ?
শিক্ষকদের একটি অংশের অভিযোগ, নির্বাচনকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অ্যাডহক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে ত্রুটি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তারা উপাচার্যের সঙ্গে বসতে চাইলেও সময় না পাওয়ায় আজ দুপুরে সরাসরি তার কক্ষে যান। সেখানেই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক দাবি করেন, আলোচনার সময় প্রক্টর প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন এক শিক্ষককে লাথি মারেন এবং অপর শিক্ষককে ঘুষি দেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
তার ভাষ্য, “আমরা শুধু নিয়োগে ত্রুটি নিয়ে সাবধান করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু উল্টো আমাদের ওপর হামলা হয়েছে।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে প্রক্টরকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ভিসির বক্তব্য
উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন, “কিছু শিক্ষক ও কর্মচারী মিলে অযথা মব তৈরি করেছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া ছিল স্বচ্ছ—লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কোনো টাকা বা সুপারিশ কাজ করেনি।”
তিনি আরও দাবি করেন, এই নিয়োগ “সর্বকালের শ্রেষ্ঠ নিয়োগ” এবং এতে অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন।
প্রশাসনিক ও আইনি অবস্থান
উপাচার্য তার কক্ষে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ছয়জন আহতের কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছেন সাদা দলের সাবেক সভাপতি।
অন্যদিকে সিলেট মহানগর পুলিশ–এর শাহপরান (রহ.) থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। কেউ অভিযোগও করেননি।”
প্রশ্নের মুখে নিয়োগ, চাপে প্রশাসন
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে এই সংঘর্ষ নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সামনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়—এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।