নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটে বিপুল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়ার পর দেশের শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের পথ খুলে গেছে।
এর আওতায় জাতীয় সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ দেওয়া হবে। একইসঙ্গে সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো হবে।
🔹 দ্বিকক্ষ সংসদ ও উচ্চকক্ষ
সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে (PR পদ্ধতি) ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন বাধ্যতামূলক থাকবে।
🔹 সংসদের নতুন ভূমিকা
নির্বাচনের পর প্রথম ১৮০ দিন সংসদ সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। এরপর নিয়মিত আইনপ্রণেতা হিসেবে কাজ করবে।
🔹 সাংবিধানিক সংস্কারের মূল দিক
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল
নির্বাচন কমিশন, দুদক, ন্যায়পাল, পিএসসি ও সিএজি নিয়োগে স্বচ্ছ কমিটি পদ্ধতি
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন: অর্থবিল ও অনাস্থা প্রস্তাব ছাড়া অন্য বিলে দলীয় লাইনের বিপক্ষে ভোটের সুযোগ
সংবিধানের মূলনীতিতে যুক্ত হচ্ছে: সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি
মৌলিক অধিকারে যুক্ত হচ্ছে: নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা
🔹 প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ও জরুরি অবস্থা
একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন
জরুরি অবস্থা জারিতে প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্ত নয়, মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাগবে
জরুরি অবস্থায় মৌলিক অধিকার খর্ব করা যাবে না
🔹 রাষ্ট্রপতি ও বিচার বিভাগের সংস্কার
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সদস্যদের গোপন ব্যালটে ভোটে
রাষ্ট্রপতি অভিশংসনে উভয়কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন
প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হবে আপিল বিভাগ থেকে, বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা
🔹 নারীদের প্রতিনিধিত্ব
বর্তমান ৫০টি সংরক্ষিত আসন ক্রমে ১০০-তে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
🔹 ভাষা ও নাগরিক পরিচয়
নাগরিক পরিচয় হবে ‘বাংলাদেশি’
রাষ্ট্রভাষা বাংলা থাকলেও অন্যান্য মাতৃভাষার স্বীকৃতি যুক্ত হচ্ছে
🔹 গণভোটের ফলাফল
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ।
গণভোটে ভোট পড়ে ৬০.২৬%।
‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন
‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন
বিশাল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের ইতিহাসে এটি চতুর্থ গণভোট। ‘হ্যাঁ’ জয়ী না হলে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি থাকত না—ফলে রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়াও অনিশ্চয়তায় পড়ত।