ভোটের আগের রাত: পরিবর্তনের পরীক্ষায় বাংলাদেশ, নজিরবিহীন উত্তেজনায় দেশ
শেখ হাসিনার পতনের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন, আগামীকাল রায় দেবেন ভোটাররা
রিপোর্টার: নুর মোহাম্মদ : দৈনিক তাজা খবর।
আজ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটের আগের এই মুহূর্তে সারাদেশ যেন থমথমে—উত্তেজনা, প্রত্যাশা আর অনিশ্চয়তার মিশ্র অনুভূতিতে আচ্ছন্ন পুরো দেশ।
২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর এটিই দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। ফলে এই ভোটকে অনেকেই দেখছেন কেবল ক্ষমতা বদলের লড়াই হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। সারাদেশে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ব্যালট ও নির্বাচন সামগ্রী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে রয়েছে পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও ভোটারদের মধ্যে স্পষ্ট উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেউ বলছেন, “এটা আমাদের নতুন করে কথা বলার সুযোগ।” আবার কেউ শঙ্কা প্রকাশ করছেন সহিংসতা ও অস্থিরতা নিয়ে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন শুধু সংসদ গঠনের বিষয় নয়—এটি প্রমাণ করবে আন্দোলন-পরবর্তী বাংলাদেশ কতটা গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল পথে হাঁটতে পারে।
নির্বাচন কমিশন ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গুজব, অপতথ্য ও উসকানিমূলক প্রচারণা থেকে সতর্ক থাকার অনুরোধও করা হয়েছে।
আগামীকাল, ১২ ফেব্রুয়ারি—ভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন জনগণ। পুরো জাতির দৃষ্টি এখন ব্যালট বাক্সের দিকে।
ভোটের আগের রাত: পরিবর্তনের পরীক্ষায় বাংলাদেশ, নজিরবিহীন উত্তেজনায় দেশ