কক্সবাজার প্রতিনিধি :
কক্সবাজারের উখিয়া–টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে আবারও ঘনিয়ে আসছে গভীর মানবিক সংকট। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর অনুদান (এইড) কমে যাওয়ায় খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা সেবা, শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
সম্প্রতি জার্মান গণমাধ্যম DW সহ একাধিক আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, ইউক্রেন–গাজাসহ বিভিন্ন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহায়তার ফোকাস সরে যাওয়ায় রোহিঙ্গা সংকটে বরাদ্দ কমছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিবিরে বসবাসরত প্রায় ১০ লক্ষ রোহিঙ্গার জীবনযাত্রায়।
কী কী সমস্যায় পড়ছে রোহিঙ্গারা?
খাদ্য সংকট: রেশন কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার দিনে এক বেলা খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খাচ্ছে।
চিকিৎসা ব্যাহত: মেডিকেল সেন্টারে ওষুধ ও চিকিৎসক সংকট দেখা দিয়েছে।
শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের ঝুঁকি: শিশুদের লার্নিং সেন্টারগুলোতে শিক্ষক ও উপকরণ সংকটে কার্যক্রম সীমিত হচ্ছে।
নিরাপত্তা উদ্বেগ: কর্মসংস্থানের অভাবে অপরাধ ও অবৈধ কার্যকলাপের ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করছে এনজিওগুলো।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, সহায়তা কমে গেলে শরণার্থীদের মধ্যে অপুষ্টি, রোগব্যাধি ও মানসিক চাপ আরও বেড়ে যাবে। এতে শুধু রোহিঙ্গারাই নয়, আশপাশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে।
আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রোহিঙ্গা সংকটকে ‘দীর্ঘমেয়াদি মানবিক দায়িত্ব’ হিসেবে না দেখলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। জাতিসংঘ ও দাতা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—রাজনৈতিক অগ্রাধিকার যাই হোক, রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরি সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে।
বিশ্লেষণ
রোহিঙ্গা সংকট এখন শুধু শরণার্থী সমস্যা নয়—এটি একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মানবিক চ্যালেঞ্জ। এইড কমে গেলে কেবল কক্সবাজার নয়, পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যায় রূপ নিতে পারে।