১৪ বছর পর বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু

ঢাকা-করাচি রুটে প্রথম ফ্লাইটের সফল অবতরণ
ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ | রিপোর্টার: নুর মোহাম্মদ
দীর্ঘ ১৪ বছরের বিরতির পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আজ (২৯ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা থেকে করাচির উদ্দেশে প্রথম সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট BG-341 হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সন্ধ্যা আনুমানিক ৮টা থেকে ৮টা ১৫ মিনিটের মধ্যে উড্ডয়ন করে এবং প্রায় ৩ ঘণ্টা পর রাত ১১টা থেকে ১১টা ০৩ মিনিটের মধ্যে পাকিস্তানের জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
করাচিতে অবতরণের পর পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটির পক্ষ থেকে বিমানটিকে ঐতিহ্যবাহী ওয়াটার ক্যানন স্যালুট দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। এটি ২০১২ সালের পর দুই দেশের মধ্যে প্রথম সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান: ঢাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। তারা রিবন কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে শেখ বশির উদ্দিন বলেন, সরাসরি এই ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে যাত্রীদের ভ্রমণ সহজ হবে এবং পর্যটন, বাণিজ্য ও মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ আরও জোরদার হবে।
অন্যদিকে করাচিতে প্রতিক্রিয়ায় সিন্ধ প্রদেশের গভর্নর কামরান টেসোরি বলেন, এই বিমান যোগাযোগ দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ফ্লাইট ও সময়সূচি: প্রথম ফ্লাইটে প্রায় ১৩৮ থেকে ১৫০ জন যাত্রী ছিলেন এবং ফ্লাইটটি ছিল সম্পূর্ণ ভর্তি। নতুন এই রুটে প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দুই দিন—বৃহস্পতিবার ও শনিবার ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
শীতকালীন সময়সূচির আওতায় ফ্লাইটটি ৩০ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকবে। সফল হলে পরে দীর্ঘমেয়াদি অনুমোদন দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
যাত্রীদের সুবিধা: ২০১২ সালে এই রুট বন্ধ হওয়ার পর যাত্রীদের পাকিস্তান যেতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ হয়ে ট্রানজিট করতে হতো, ফলে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে যেত। সরাসরি ফ্লাইট চালুর ফলে এখন যাত্রীরা কম সময়ে ও কম খরচে পাকিস্তান যাতায়াত করতে পারবেন।
পটভূমি: গত এক বছরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা জোরদার হয়। সেই ধারাবাহিকতায় সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলো। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই উদ্যোগ বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়াকে একটি ইতিবাচক কূটনৈতিক ও যোগাযোগগত মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৪ বছর পর আকাশে আবার বাংলাদেশ-পাকিস্তান রুটে প্রথম সরাসরি ফ্লাইট সফল