হাত ধোয়ায় মুসলিমরা যেভাবে সবার শীর্ষেঃ দৈনিক তাজা খবর। 

ধর্ম বাংলাদেশ

দৈনিক তাজা খবর, অনলাইন ডেস্কঃ

হাত ধোয়ায় মুসলিমরা যেভাবে সবার শীর্ষেঃ দৈনিক তাজা খবর। 

সুস্বাস্থ্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একটি নিয়ামত।
এই নিয়ামত সংরক্ষণে ইসলামের রয়েছে বিশেষ নির্দেশনা।
স্বাস্থ্য নিয়ে ইসলামের সামগ্রীক দৃষ্টিভঙ্গি হল “প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ করা উত্তম”। রোগের অন্যতম প্রধান কারণ সমূহের মধ্যে একটি হলো অপরিচ্ছন্নতা।আমাদের শরীরের মধ্যে হাত এমন একটি অঙ্গ যা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।ফলে হাতের মধ্যেই ময়লা-জীবাণু সাধারণত বেশি লেগে থাকে। করোনাভাইরাস আগমনের পর তারা তো আরো স্পষ্ট হয়ে উঠল।
তাই সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করণে ইসলাম সমস্ত শরীরের প্রতি যত্নের বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদানের পাশাপাশি হাতের পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়েছে ।
বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য পাঁচবার অজু করে আর ওযুর বিধানের সর্বপ্রথম অজু শুরু করতে হয় হাত কব্জি পর্যন্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে।….

হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতের জন্যে দাড়াও, তখন স্বীয় মুখমন্ডল ও হাতসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত কর, মুছেহ কর মাথা এবং পদযুগল গিটসহ।(সুরা মায়েদা ৫:৬)
আজ গোটা দুনিয়ায় খাবারের আগে এবং পরে ভালো করে হাত দেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে।
আর আমাদের নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম চৌদ্দশ বছর আগেই পানাহারের আগে এবং পরে হাত ধোয়ার ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত খাবারের আগে হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে নিতেন। (মুসনাদে আহমাদ)
অন্য হাদিসে বর্ণিত আছে খাবারের পরে তিনি কুলি করতেন ও হাত ধৌত করতেন (ইবনে মাজাহ)

মুসলিমরা নবীজির সুন্নত অনুসরণে এই কাজগুলো অনেক আগে থেকেই করে থাকে।যার ফলে মুসলমানরা সব সময় হাত ধোয়ার ব্যাপারে সচেতন ছিল।

আর করোনাভাইরাস এর আগমনের পরে মুসলমানরা হাত ধোয়ার ব্যাপারে আরো বেশি সচেতন হয়েছে।

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ ঘুম থেকে উঠে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার ইচ্ছা করলে সে যেন তার হাত ধোয়ার আগে তা তার উযূ (ওজু/অজু/অযু)র পানিতে প্রবেশ না করায়। কেননা সে জানে না যে, তার হাত কোথায় রাত কাটিয়েছে এবং সে তার হাত কিসের উপর রেখেছিল।(আবু দাউদ)

আমাদের নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম ঘুম থেকে উঠার পরে কোন পাত্রে হাত দিতে নিষেধ করেছেন কারণ রাতের বেলায় ঘুমানোর সময় আমার হাত কোথায় ছিল তা আমি জানিনা। হাতের মধ্যে নাপাক/জীবাণু লেগে থাকতে পারে যা দৃশ্যমান নয়। সেক্ষেত্রে সর্বপ্রথম নবিজি (সঃ) আমার হাত আগে নাপাক/জীবাণুমুক্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
এখানেই শেষ নয়।
আজকের বিজ্ঞান ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত হাত ধৌত করতে পরামর্শ দিয়েছে।আর আমাদের নবীজি বলেছেন হাত তিনবার পর্যন্ত ধৌত করার কথা এবং তিনি নিজেও তিনবার ধৌত করতেন।
আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন হাত তিনবার ধৌত করতে হলেও ঠিক এই সময়ে টুকুই লাগে। আল্লাহু আকবার!! আল্লাহু আকবার!!

যা বুঝতে বিজ্ঞানের লেগেছে বহু বছর লেগেছে অনেক যন্ত্রপাতি, অনেক ল্যাব-বিজ্ঞানাগার। আর তা আমাদের নবীজি চৌদ্দশ বছর আগে কোন যন্ত্রপাতি ছাড়াই জানতে পেরেছিলেন।কারণ তিনি ছিলেন বিজ্ঞানীদের বিজ্ঞানী। ডাক্তারদেরও ডাক্তার।
পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম।
এইসব দিকনির্দেশনা মুসলমানরা বহু আগে থেকে পালন করে আসছিলেন সুন্নত হওয়ার কারণে।যার ফলে হাত ধোয়ায় মুসলিমরা সবার চেয়ে এগিয়ে। আজকে আবার হাত ধোয়া দিবস বছর ঘুরে এসেছে। আমরা চাই করোনাভাইরাস এর এই অভিশাপ থেকে মুক্ত হোক পৃথিবী। হাত ধোয়ার মধ্য দিয়ে গোটা পৃথিবী করোনা ভাইরাসসহ সব ধরনের জীবাণু আর নাপাক মুক্ত হোক এই পৃথিবী আল্লাহ তাআলার কাছে এই প্রত্যাশা।

————–-মাওলানা আবু আইমান
খতীব,আল্লামা জালালুদ্দিন রুমি (রহঃ) জামে মসজিদ, চট্টগ্রাম।

আরও খবর পড়তে দৈনিক তাজা খবর ক্লিক করুন 

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *