দৈনিক তাজা খবর, অনলাইন ডেস্কঃ
স্বাধীনতা দিবসের পুরস্কার সহ সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পেলেন সন্দ্বীপের কৃতী সন্তান কাজী মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসেনঃ দৈনিক তাজা খবর।
কাজী মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসেন পিতা :কাজী আব্দুল লতিফ জম্ম:১৯২৬ সাল, দুবলাপাড় গ্রাম, কাজী বাড়ি, সন্দ্বীপ। সন্দ্বীপ তথা বাংলাদেশের এক আলোকিত নাম। ১৯৫৩ সালে সিভিল সার্ভিস এর কঠিন পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে সি এস পি হোন। ১৯৫৬ সনে পাকিস্তান সরকারের অধীনে কুমিল্লার কালেক্টর হোন। চট্টগ্রাম কাস্টম কমিশনার, রাওয়াল পিন্ডিতে যুগ্ম সচিব শিক্ষা বিভাগে, টারিফ কমিশন এর চেয়ারম্যান, রেলওয়ে গভর্নিং বোর্ডের মেম্বার সহ গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। স্বাধীনতার পর পর বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও বিচারপতি জনাব আবু সাঈদ চৌধুরীর প্রথম মূখ্য সচিব (রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আমলা) ছিলেন। তাকে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজস্বের জনক বলা হয়। “বোর্ড অব রেভেনিউ(রাজস্ব বোর্ড)” তারই সৃষ্টি। এছাড়া টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সহ অসংখ্য রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন কালে সততা, ন্যায় নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের জন্য অতি সহজে সবার মন জয় করে নেন। স্বজন প্রিয়তা ছিল তার কাছে শূন্যর কোঠাই। একজন সু লেখক ছিলেন সন্দ্বীপের কাজী সাহেব। তার বহু সনেট ও কবিতা তখনকার দিনে “সওগাত” ও মোহাম্মদী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। সন্দ্বীপ মডেল হাই স্কুলের কৃতী ছাত্র ছিলেন। ১৯৪৫ সনে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মুসলমানদের মধ্যে প্রথম স্থান ও সম্মিলিত মেধা তালিকায় ষষ্ঠ হোন। ১৯৪৭ সনে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধা তালিকায় প্রথম দশ জনের মধ্যে ছিলেন। এছাড়া তিনি আমেরিকার সাউদান ইউনিভার্সিটি ও ক্যালিফোর্নিয়া স্কুল অব পাবলিক এ্যাডমিনিষ্টেশন লাভ করেন। তিনি কিছুদিন সন্দ্বীপ কাঠগড় হাই স্কুল ও দক্ষিণ সন্দ্বীপ হাই স্কুলে শিক্ষকতা করেন।। নিঃঅহংকার, সততার সাথে সারা জীবন অতিবাহিত করেন। মরনকালে সরকার প্রদত্ত জমি ছাড়া তেমন কিছু রেখে যেতে পারেন নি। তিনি সন্তোষপুরের নামকরা পরিবার শামছু মিয়ার কন্যাকে বিয়ে করেন। ব্যাক্তিগত ভাবে তিনি দুই ছেলে এক মেয়ে সন্তানের জনক। তার বড় ছেলে অস্ট্রেলিয়ার এ্যাডিলেড পুলিশ বিভাগের যোগাযোগ প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। ছোট ছেলে মিএ এন্ড এসোসিয়েটস কনসাল্টিং ফার্মে কনসালটেন্ট ট্রান্সলেটর হিসেবে কর্মরত। এবং একমাত্র মেয়ে সাবেক টাঙ্গাইল জেলা জজ। শহীদ বুদ্ধিজীবী ডাক্তার ফজলে রাব্বীর একমাত্র ছেলের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। ১৯৮১ সনের ১৯শে অক্টোবর এ হলান্ডের এক আন্তর্জাতিক “চা সম্মেলনে গিয়ে হলান্ডের রটারডাম শহরের আটলান্টা হোটেলে ব্লাড পেশারে আক্রান্ত হয়ে জীবন প্রদীপ নিভে যায়। তার এই গৌরবময় ও কীর্তির স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার ১৯৮২ সনে সমাজ সেবাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা “স্বাধীনতা পুরষ্কার “এ ভূষিত করেন। আগামীকাল মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে সন্দ্বীপের অহংকার তথা বাংলাদেশের গর্ব এই গুনী মানুষটির প্রতি রইলো স্যালুট ও শ্রদ্ধা আল্লাহ যেন ওনাকে জান্নাত নসিব করেন। এবং দেশে ওনাদের মতো আরো সৎ, মেধাবী ও নিরঅহংকারী অসংখ্য সন্তানের জন্ম হোক। এই কামনা করি।
স্বাধীনতা দিবসের পুরস্কার সহ সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পেলেন সন্দ্বীপের কৃতী সন্তান কাজী মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসেনঃ দৈনিক তাজা খবর।
তথ্য ও ছবি :অনলাইন