নিজস্ব প্রতিবেদক চট্রগ্রামঃঃ চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মুছপুর গ্রামের আরিফ মুন্সির বাড়ীর মো. বাবুল ও কাউছারা বেগমের মেয়ে হালিমা বেগম মাইমুনার সাথে ২০জুন, ২০১৯ইং বিয়ে হয় একই উপজেলার রহমতপুর গ্রামের মোহাম্মদ রফিক ও মোছাম্মৎ পারুল বেগমের একমাত্র পুত্র প্রবাসী মোহাম্মদ নুর নবীর সাথে। বিয়ের ১বছর ২মাসের মাথায় পরকিয়া প্রেমের টানে প্রবাসীর ঘর ছেড়ে পর পুরুষের হাত ধরে উধাও হয়ে যায় মাইমুনা।
জানা যায়, ২০১৯সালে বিয়ের পর ২মাস পর বউকে গ্রামের বাড়ীতে বৃদ্ধ মা-বাবার সাথে রেখে প্রবাসে পাড়ি জমান মোহাম্মদ নুর নবী। তার বিদেশ অবস্থানের সুযোগ নিয়ে হালিমা বেগম মায়মুনা অবৈধ ও পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পরে ময়মনসিং মুক্তাগাছা এলাকার খোরশেদ আলম নিরব নামের এক ছেলের সাথে। তার হাত ধরেই পালিয়ে যাওয়া মাইমুনা। এখন কোথায় আছে সেটা নিশ্চিত করতে পারেনি কেউ।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, প্রবাসী নুর নবীর পিতা মোহাম্মদ রফিক গত ১০ আগস্ট, ২০২০ইং তারিখ সন্দ্বীপ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী লিপিবদ্ধ করেন (জিডি নং-২৬৮)। ডায়রীতে তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন ভোরে তিনি তার পুত্রবধুর ঘরের দরজা খোলা দেখে তাকে এদিক ওদিক খোঁজাখুজি করেন। কিন্তু কোথাও দেখতে না পেয়ে বউয়ের বাপের বাড়ীতেও যোগাযোগ করেন। তারাও কোনরূপ সন্ধান দিতে না পারায় অবশেষে থানায় সাধারণ ডায়েরী লিপিবদ্ধ করেন।
এদিকে গত ১০ সেপ্টেম্বর হালিমা বেগম মাইমুনা রেজিস্ট্রিযোগে প্রেরিত এক তালাকনামার মাধ্যমে নুর নবীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার নোটিশ পাঠিয়েছেন।
মাইমুনার সাথে কথা বলার জন্য ফোন দিলে তার নতুন স্বামী বলেন, আমরা একজন আরেকজনকে ভালবেসে বিয়ে করেছি। ওনি এখন আমার স্ত্রী।
মায়মুনার খোঁজ এবং অবস্থান জানার জন্য তার মাকে ফোন দিলে, তিনি কিছুই বলতে রাজী নন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিয়ের আগেও মাইমুনার একাধিক ছেলের সাথে সম্পর্ক ছিলো। বিয়ের পর নুরনবীর বৃদ্ধ মা-বাবার অগোচরে পরিকিয়ায় জড়িয়ে পরেন ময়মনসিংহের নিরবের সাথে। সবশেষে বাড়ী থেকে টাকা পয়সা ও স্বণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায় প্রেমিকের হাত ধরে। বর্তমানে মাইমুনা ও নিরব দু’জনে সংসার পেতেছেন আর একের পর এক লাইক ও টিকটক ভিডিও তৈরী করছেন।
এদিকে নিজের স্ত্রী অন্যের হাত ধরে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রবাসী নুরনবীর সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের।
তিনি বলেন, আমার সরলতা ও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে সে প্রতারণা করেছে। তার মতো দুষ্টু চরিত্রের মেয়ের সাথে সংসার করা আমার জন্য ছিল রীতিমতো পাপ। আগে জানলে আমি নিজেই তাকে তালাক দিয়ে দিতাম।
রাতের অন্ধকারে আমার বৃদ্ধ মা-বাবাকে ঘুমে রেখে সে টাকা পয়সা স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে গেছে। যাওয়ার সময় নগদ ৩০হাজার টাকা, ৫/৬ ভরি স্বর্ণালংকার এবং দামী কাপড় চোপড় নিয়ে গেছে। আবার আমার জন্য তালাকনামাও পাঠিয়েছে।
তিনি বলেন, আমি দেশে আসলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব। আমার বৃদ্ধ মা-বাবা ছাড়া বাড়ীতে কেউ নেই। সুতরাং এখনই কোন ব্যবস্থা নিতে পারছিনা।
নুরনবী আরও বলেন, এখন শুনছি বিয়ের আগেও তার একাধিক পুরুষের সাথে সম্পর্ক ছিলো। আমি আমার এক বন্ধুর কথায় বিশ্বাস করে কোন ধরণের খবরা খবর না নিয়ে তার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলাম।
মেয়ের পরিবারের অবস্থান সর্ম্পকে জানতে চাইলে নুরনবী বলেন, মেয়ের মা সব জানে। ওনাদের সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ আছে। এখন কিছুই জানেনা বলে অভিনয় করছেন …