ত্যাগীদের মূল্যায়ন কবে? চট্টগ্রামে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিতদের প্রত্যাশা ঘিরে নতুন সমীকরণ

জাতীয় বাংলাদেশ রাজনীতি
আরিফুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক তাজাখবর ডেস্ক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

দীর্ঘ দেড় দশকের আন্দোলন-সংগ্রাম, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের কঠিন সময় পার করে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা চট্টগ্রামের অনেক পরীক্ষিত নেতা এখন দলের মূল্যায়নের প্রত্যাশায় প্রহর গুনছেন।

বিশেষ করে যারা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও দলের প্রার্থীর পক্ষে রাজপথে থেকে কাজ করেছেন, তারা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্বে নিজেদের দেখতে আগ্রহী। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), ওয়াসা, বন্দর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে এসব ত্যাগী নেতাদের দেখতে চান তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে অনেক নেতাকে আইনি লড়াই ও কারাবরণের মধ্য দিয়ে কঠিন জীবন পার করতে হয়েছে। কেউ কেউ বছরের পর বছর জেলের ঘানি টেনে ব্যক্তিগত ব্যবসা-বাণিজ্য ও আর্থিক ভিত্তিও হারিয়েছেন। তবুও দলের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে তারা আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন এবং নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আলমগীর নূর দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ তাকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে আগ্রহী। একইসঙ্গে দলের একটি অংশ চট্টগ্রামের এক নারী নেত্রীকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায়।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর রাজপথে সক্রিয় থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেন এবং পাঁচ বছরেরও বেশি সময় কারাবরণ করেন। তার অনুসারীরা তাকে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দেখতে আগ্রহী।

এছাড়া অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন চৌধুরী ও আহমেদ উল আলম রাসেল—এই দুই ত্যাগী নেতাকেও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড বা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনের সাবেক মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বকর বর্তমানে নগর রাজনীতির অন্যতম পরিচ্ছন্ন ও জনপ্রিয় মুখ। বিগত ১৬-১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি একাধিক রাজনৈতিক মামলার শিকার হন এবং কয়েকবার কারাবরণ করেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, তাকে সিডিএ চেয়ারম্যান বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে দেখা যেতে পারে।

অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শামসুল আলম ২০০৮ সালের পর থেকেই রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। ১/১১-পরবর্তী সময় থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত একাধিকবার তাকে র‍্যাব ও ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তার পৈত্রিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইসলামিয়া হোটেল থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও আলোচনায় আসে।

দলীয় সূত্রে আরও জানা যায়, চট্টগ্রাম ওয়াসা, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বিএনপির পরীক্ষিত নেতাদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

দলের হাইকমান্ডের কাছে চট্টগ্রামের প্রতিটি নেতার ত্যাগের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে বলে জানা গেছে। দুঃসময়ে যারা দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে—এমনটাই প্রত্যাশা তৃণমূল নেতাকর্মীদের।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বাস্তবতায় প্রশাসন ও উন্নয়নের গতি ধরে রাখতে চট্টগ্রামের অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেতাদের দক্ষতা কাজে লাগানো বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ত্যাগীদের মূল্যায়ন কবে? চট্টগ্রামে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিতদের প্রত্যাশা ঘিরে নতুন সমীকরণ

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *