প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | নিজস্ব প্রতিবেদক
নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর সরকার গঠনের অপেক্ষায় থাকা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “এবার দেশ গড়ার পালা।”
নির্বাচন-পরবর্তী প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন—যেকোনো মূল্যে দেশে আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে হবে; সহিংসতা, প্রতিশোধ বা উসকানি বরদাশত করা হবে না।
রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ঐক্যই শক্তি, বিভাজন দুর্বলতা
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন দুর্বলতা।” নির্বাচনকে ঘিরে কোথাও উত্তেজনা তৈরি হয়ে থাকলে তা যেন প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়—দলীয় নেতাকর্মীদের শান্ত ও দায়িত্বশীল থাকার নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর ভাষায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হলে গণতন্ত্র টেকসই হবে না।
সবার জন্য সমান আইন, সমান সুযোগ
ব্যবসা-বাণিজ্যে কোনো বিশেষ মহলকে সুযোগ দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে সবাই ব্যবসা করতে পারবে। গণতান্ত্রিক অর্থনীতি গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হবে—সরকারি দল বা বিরোধী দল, ভিন্নমত বা সংখ্যালঘু—কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
চ্যালেঞ্জ: অর্থনীতি ও সুশাসন
নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন—ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিষ্ঠানসমূহকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা। “আর কোনো অপশক্তি যেন দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে—এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে,” বলেন তিনি।
৩১ দফা ও জুলাই সনদ
দলীয় ইশতেহারের ৩১ দফা এবং জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
পররাষ্ট্রনীতি: জনগণের স্বার্থ সবার আগে
বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশ ও জনগণের স্বার্থই হবে মূল বিবেচ্য। কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নির্দিষ্ট করে নয়—সমতার ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করা হবে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উদ্যোগ—যেমন বেল্ট অ্যান্ড রোড—দেশের অর্থনীতির পক্ষে হলে বিবেচনা করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন।
গণতন্ত্রের বিজয়
বিজয়ের জন্য দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “এই বিজয় বাংলাদেশের, এই বিজয় গণতন্ত্রের।” দীর্ঘ দেড় দশক পর জনগণের সরাসরি ভোটে দায়বদ্ধ সংসদ প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে তিনি সবাইকে শান্তভাবে দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে উদযাপনের আহ্বান জানান।