আরিফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম :
চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত উপকূলীয় দ্বীপ সন্দ্বীপে বসবাস করে কয়েক লাখ মানুষ। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরও দ্বীপটির সার্বিক উন্নয়ন প্রশ্নবিদ্ধ। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় অবহেলা আর রাজনৈতিক উদাসীনতার কারণে সন্দ্বীপ আজও পিছিয়ে রয়েছে।
⚡ বিদ্যুৎ সংকট: অন্ধকারেই জীবন
সন্দ্বীপে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এখনো স্বপ্ন। দিনের বড় একটা সময় বিদ্যুৎ থাকে না, রাতে পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা—সবকিছুতেই এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন,
“পরীক্ষার আগে রাতভর বিদ্যুৎ না থাকলে পড়বো কীভাবে? আমাদের ভবিষ্যৎ কি কেউ ভাবছে?”
🏥 স্বাস্থ্যসেবা: হাসপাতাল আছে, চিকিৎসা নেই
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকলেও সেখানে নেই পর্যাপ্ত ডাক্তার, নেই আধুনিক যন্ত্রপাতি। গুরুতর রোগী হলে বাধ্য হয়ে চট্টগ্রাম শহরে নিতে হয়। কিন্তু সেখানেও রয়েছে আরেক বিপদ—ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত।
স্থানীয়দের দাবি, সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে অনেক রোগীর প্রাণ হারানোর ঘটনাও ঘটেছে, যা প্রশাসনের নজরে খুব কমই আসে।
🚤 যাতায়াত ব্যবস্থা: প্রতিদিনের ঝুঁকি
সন্দ্বীপ–চট্টগ্রাম নৌপথ এখনো নিরাপদ ও স্থায়ী সমাধান পায়নি। বৈরী আবহাওয়ায় লঞ্চ বন্ধ থাকে, স্পিডবোটে যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ। শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী—সবার জন্য এই যাত্রা এক ধরনের যুদ্ধ।
এক প্রবাসী পরিবারের সদস্য বলেন,
“মায়ের অসুস্থতায় চট্টগ্রাম নিতে গিয়ে সারারাত ঘাটে বসে ছিলাম। এটাই কি নাগরিক সুবিধা?”
🗳️ নির্বাচন এলেই প্রতিশ্রুতি
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচন সামনে এলেই নেতারা সন্দ্বীপে আসেন। রাস্তা, বিদ্যুৎ, হাসপাতাল, টানেল—নানান প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু ভোট শেষ হলেই সেই প্রতিশ্রুতিগুলো আর বাস্তবায়ন হয় না।
এক প্রবীণ বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমরা শুধু ভোটার। আমাদের ভোট দরকার, কিন্তু আমাদের জীবন নয়।”
🌊 নদীভাঙন ও ভূমি সংকট
সাগর ও নদীভাঙনে প্রতিবছর সন্দ্বীপের বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারাচ্ছে। পুনর্বাসন ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। ভূমি দখল ও প্রভাবশালীদের আগ্রাসনের অভিযোগও রয়েছে দীর্ঘদিনের।
🧠 বিশ্লেষণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্দ্বীপের মতো উপকূলীয় দ্বীপকে অবহেলা করলে সেখানে দারিদ্র্য, অভিবাসন ও সামাজিক সংকট আরও বাড়বে। টেকসই যাতায়াত ব্যবস্থা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও স্থায়ী বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা ছাড়া দ্বীপবাসীর জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব নয়।
❗ সন্দ্বীপবাসীর প্রশ্ন
আমরা কি বাংলাদেশের নাগরিক নই?
আমাদের উন্নয়ন কি শুধু নির্বাচনী ইশতেহারে থাকবে?
ভোটের পরেও কি কেউ আমাদের কথা শুনবে?
🔚 উপসংহার
সন্দ্বীপের মানুষ উন্নয়ন চায়, দয়া নয়। তারা ভোটের মূল্য চায় বাস্তব কাজের মাধ্যমে। এখন দেখার বিষয়—রাষ্ট্র ও জনপ্রতিনিধিরা কি সন্দ্বীপকে শুধু ভোটের দ্বীপ নয়, মানুষের দ্বীপ হিসেবে দেখবে?
ভোট আসে, আশ্বাস আসে—কিন্তু উন্নয়ন আসে না: সন্দ্বীপ কি শুধুই নির্বাচনের দ্বীপ?