ফরাসী প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ: 'নবীর কার্টুন নিয়ে মুসলিমরা কেন ক্ষুব্ধ আমি বুঝতে পারি'

আমি মুসলিমদের শ্রদ্ধা করিঃ ফরাসী প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ

আন্তর্জাতিক ধর্ম

দৈনিক তাজা খবর

ফরাসী প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ বলেছেন, ইসলামের নবীকে নিয়ে আঁকা বিতর্কিত ব্যঙ্গচিত্রের কারণে মুসলিমরা কেন এতটা ক্ষুব্ধ হয়েছিল সেটা তিনি বুঝতে পারেন। তবে এর কারণে সহিংসতার যুক্তি তিনি কোনদিনই মানতে পারবেন না।

আল জাজিরা টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ এই মন্তব্য করেছেন।

গত শুক্রবার ফ্রান্সের নিস শহরে এক ব্যক্তি ছুরি হাতে হামলা চালিয়ে তিন জনকে হত্যার ঘটনার পটভূমিতে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ একথা বললেন। নিস শহরের ঐ ঘটনা ছিল ফ্রান্সে এক মাসের সামান্য বেশি সময়ের মধ্যে তৃতীয় সন্দেহভাজন ইসলামী জঙ্গি হামলা।

ইসলামের নবীর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সের সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর তীব্র বিতর্ক চলছে। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতার’ প্রেক্ষাপটে এই ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের অধিকার আছে বলে যুক্তি দেয়ার পর তা মুসলিমদের ক্ষিপ্ত করে। তখন অনেকে ফরাসী পণ্য বর্জনের ডাক দেয়।

গত মাসের শুরুতে ফ্রান্সের এক স্কুল শিক্ষক ক্লাসে তার ছাত্রদের এই ব্যঙ্গচিত্রটি দেখিয়েছিলেন। এরপর ঐ শিক্ষককে শিরশ্ছেদ করে হত্যা করা হয়।

নিসের হামলার ঘটনার সূত্রে তিউনিসিয়ায় দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা। নিসের হামলাকারী ছিল তিউনিসিয়ার নাগরিক।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা আরও জঙ্গি হামলা হতে পারে বলে আশংকা করছেন।

নিসের ঘটনার পর লিঁও শহরে আরেকটি হামলা হয়। সেখানে অর্থোডক্স চার্চের এক পাদ্রি হামলায় আহত হন। তবে হামলাকারি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

 

সাক্ষাৎকারে যা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ

আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ বলেছেন, মুসলিম বিশ্বে তার কথা নিয়ে যে এরকম তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে, তার কারণ হচ্ছে লোকে ভুল করে ভেবেছেন তিনি নবীর ব্যঙ্গচিত্রকে সমর্থন করেছেন। অথবা তারা মনে করেছেন ফরাসী সরকারই বুঝি এই ব্যঙ্গচিত্র তৈরি করেছে।

“যে ধরণের অনুভূতি প্রকাশ করা হচ্ছে আমি সেটা বুঝতে পারি এবং আমি তাদের শ্রদ্ধা করি। কিন্তু আমার ভূমিকাটিও আপনাদের বুঝতে হবে। এখানে দুটি বিষয়: শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং কিন্তু সেই সঙ্গে অধিকার রক্ষা করা।” যারা নবীর ব্যঙ্গচিত্র একেঁছেন তাদের বাকস্বাধীনতার প্রতি ইঙ্গিত করে বলছিলেন তিনি।

“আজকের বিশ্বে কিছু মানুষ আছেন যারা ইসলামকে বিকৃত করেন এবং এই ধর্মের নামেই, যেটিকে তারা রক্ষা করছেন বলে দাবি করেন, তারা মানুষকে হত্যা করেন, জবাই করেন — ইসলামের নামে কিছু চরমপন্থী আন্দোলন এবং ব্যক্তি সহিংসতার চর্চা করেন।”

মি. ম্যাক্রঁ বলেন, ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে ক্ষোভের কারণে এখন ফরাসী পণ্য বর্জনের যে প্রস্তাব করা হয়েছে সেটা অর্থহীন এবং অগ্রহণযোগ্য।

যে পটভূমিতে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ একথা বললেন:

বৃহস্পতিবার নিস শহরে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছিল তিনজনকে। হামলাকারী ছিলেন তিউনিসিয়ার নাগরিক, যিনি আগের রাতে নিস শহরে আসেন।এ ঘটনার পর ফ্রান্সে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। সব ধর্মীয় উপাসনাস্থলে এবং স্কুলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়.

এর আগে গত মাসের শুরুতে প্যারিসের উপকন্ঠে স্যামুয়েল প্যাটি নামে এক স্কুল শিক্ষককে হত্যা করা হয়। তিনি ইসলামের নবীর বিতর্কিত ব্যঙ্গচিত্র ক্লাসে তার ছাত্রদের সামনে প্রদর্শন করেছিলেন।

এই হামলার পর প্রেসিডেন্ট ম্যাক্র মন্তব্য করেছিলেন, ফ্রান্স কখনো সহিংসতার কাছে নতি স্বীকার করবে না।

এই ঘটনার জের ধরে ফ্রান্সের সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশসহ কিছু দেশে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়েপ এরদোয়ান মিস্টার ম্যাক্রঁর মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন। এরপর প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁর বাকযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।

 

তথ্যসুত্রঃ বিবিসি/ইন্টারনেট

 

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *