ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণে বাংলাদেশের আইন ও বাস্তবতা

Featured আন্তর্জাতিক জাতীয় বাংলাদেশ রাজনীতি

বাংলাদেশে ধর্ষণের মামলা শেষ হতে দশ বছর বিশ বছরও লেগে যায়,

২০১৯ সালের মার্চ মাসে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া এলাকায় দুই পুলিশ সদস্যের হাতে ধর্ষণের শিকার এক নারীকে কেন ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট। সেসময় স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতেও এ ঘটনাটি উঠে আসে।

চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ লিগাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্ট নামে দুটি সংগঠন জনস্বার্থে একটি রিট করলে সেই রিটের শুনানির পর এই রুল জারি করা হয়েছিল।

তবে এ বিষয়ে ধর্ষণের শিকার ওই নারী আর রিট মামলাটি এগিয়ে নিতে রাজি না হওয়ায় সেটি আর এগোয়নি বলে জানান বাংলাদেশ লিগাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্ট-ব্লাস্ট এর গবেষণা বিশেষজ্ঞ তাকবির হুদা। বাংলাদেশে ধর্ষণ আইনের সংস্কারের দাবিতে পরিচালিত একটি ক্যাম্পেইন “রেপ ল রিফর্ম নাও” এর নেতৃত্বও দিচ্ছেন তিনি।

তিনি বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট মামলার ঘটনা এটাই প্রথম ছিল।

বাংলাদেশ লিগাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্টের করা এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় নিষ্পত্তি হওয়া ৫০টি মামলার মধ্যে মাত্র ৩টি মামলায় জরিমানার অর্থকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য করার আদেশ দেয় আদালত। শতাংশের হিসেবে যা মাত্র ৬%।

অনেকেই মনে করেন যে, ধর্ষণের ঘটনায় কোন অংকের অর্থ দিয়েই আসলে ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সাজাই একমাত্র সমাধান।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধর্ষণের মতো ঘটনায় ভুক্তভোগীর মানসিক উন্নয়ন এবং পরবর্তীতে তার পুনর্বাসনের মতো বিষয়গুলো জরুরী হয়ে দাঁড়ায়।

এছাড়া মামলা পরিচালনার খরচ, সুচিকিৎসার মতো বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।

মি হুদা বলেন, “ধর্ষণের ক্ষেত্রে যে শুধু অপরাধ-কালীন সাজা সেটা নয়, বরং ধর্ষণের শিকার যে ব্যক্তি তার যে একটা পুনর্গঠনের এবং পুনর্বাসনের বিষয় আছে, তাকে যে প্রতিকার দেয়ার একটা কথা আছে এ ধরনের কোন ধারণাই আমাদের নাই। আমরা ধর্ষণ হলেই মনে করি যে সাজা হতে হবে।”

তিনি বলেন, এসিড সন্ত্রাস, বাল্যবিবাহের মতো ঘটনার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নিয়ম থাকলে ধর্ষণের ক্ষেত্রেও সেটি প্রযোজ্যও হওয়া উচিত। এছাড়া ধর্ষক এবং ধর্ষণের শিকার- এই দুই পক্ষের মধ্যে বরাবরই ক্ষমতার অসমতা থাকে।

  • আইনে কী আছে?

২০০০ সালের আগে ধর্ষণের ঘটনায় জরিমানার বিষয়টি বাধ্যতামূলক ছিল না। ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে জরিমানা বাধ্যতামূলক করা হয়।

এই আইনে বলা হয় যে, “যদি কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তাহার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহা হইলে ওই ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন।”

এছাড়া যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের ফলে উক্ত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন তাহলে ঐ দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।

যদি কোন ব্যক্তি কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করে বা আহত করার চেষ্টা করে তাহলে তার যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হবে। আর ধর্ষণের চেষ্টা করলে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হবে।

তথ্যসূত্রে বিবিসি নিউজ

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *